স্ক্যাম এড়ানো এবং ইমেল মার্কেটিং টিপস – প্রফেশনাল ইমেল মার্কেটিং – গাইডলাইন ২

ইমেল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আমাদের প্রডাক্টের তথ্য গ্রাহকদের কাছে পৌছানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম যা সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌছে যায়। ইমেল মার্কেটিং একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র কেননা এটি তুলনামূলক সস্তা। কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে বিজ্ঞাপন করার থেকেও ইমেল মার্কেটিং করে ইফেক্টিব রেজাল্ট বেশী পাওয়া যায়। কেননা ১০-২০ হাজার টাকা দিয়ে ১০-২০ লাখ ইমেল সেন্ড করে ৬০-৭০ জন কাষ্টমার পাওয়া যায়, যা ৫০-৬০ হাজার টাকা ব্যায় করে অন্য বিজ্ঞাপন থেকে সব সময় পাওয়া যায় না , তাই ইমেল মার্কেটিং বিজ্ঞাপন গ্রহনযোগ্য ও বিশ্বস্থ মাধ্যম। কেননা ইমেলে পাঠানো তথ্য ১-৩ মাস পরও রিপলাই পেতে দেখা যায়। আর এজন্যই বিদেশী কোম্পানীগুলোর পাশাপাশি আমাদের দেশী কোম্পানীগুলো ইমেল মার্কেটিং এ জোকে পড়তে দেখা গেছে।


ইমেল মার্কেটিং এর সব থেকে হতাশাজনক দিক হলো স্প্যামিং। স্প্যাম ফিল্টার কখনোই হতাশাজনক নয় বরং তা জনপ্রিয় এবং প্রয়োজনীয় একটি সাপোর্ট। এতে আমরা অবাঞ্চিত ইমেল আলাদা ফোল্ডারে অটো ফিল্টার হতে দেখি কিন্তু হতাশা তখনই যুক্ত হয় যখন ননস্প্যাম ইমেলগুলো স্প্যাম লিষ্টে চলে যায়। অনেক কারণেই স্প্যাম ফিল্টার আমাদের বৈধ ইমেলগুলোকেও ব্লক করে দেয়। আশা করছি এই আরটিকোলটি স্প্যাম ইমেল প্রতিরোধ করতে আপনাকে সাহায্য করবে। আমি ধারাবাহিকভাবে তা বর্ণনা করার চেষ্টা করছি। স্প্যাম ১০০ শত ভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব কি না তা আমি এখনো জানি না। প্রতি নিয়ত এই বিষয়ে স্টাডি করছি। তবে সফল ইমেল মার্কেটিং তাদের বলা হয় যারা ৬০-৯৯% ইমেল ইনবক্স করতে পারেন।
আসুন আমরা সফল ইমেল মার্কেটার হতে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেই। আর কারো কাছে এই বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান থাকলে আমার সাথে শেয়ার করবেন প্লিজ।

১। সঠিক শব্দ নির্বাচন: আপনার ইমেইলের বিষয়বস্তু এবং ব্যবহৃত শব্দ এর উপর স্প্যাম ফিল্টার আপনার ইমেলকে বিশ্লেষন করে যে এটি ইনবক্স করবে না কি স্প্যাম করবে। free, discount, offer, earn, id, visit, register, signup, raffer, click, account এই শব্দগুলো আমরা আমাদের ইমেল নিউজলেটারে ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এই কিওয়ার্ডগুলো সব থেকে বেশী স্প্যাম ট্রিগার কিওয়ার্ড। প্রফেশনালী মার্কেটিং এ এই শব্দগুলো ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিন্তু এগুলোই আপনার ইমেলকে স্প্যাম করে থাকে ৭০-৮০% ক্ষেত্রেই। তাই আমরা স্প্যাম ট্রিগার কীওয়ার্ড এড়িয়ে চলব। আমি মূলত এখানে কয়েকটি শব্দ দেখিয়েছি যা যথেষ্ট নয় তাই নিচে ‘নো স্প্যাম টুডে’ পয়েন্টে আরো আলোচনা করব।

২। সুবিন্যস্ত ইমেল টেমপ্লেট: নিউজলেটারটি যতটা সম্ভব সহজ সুন্দর ও সুবিন্যস্ত রাখুন। বিভিন্ন ধরনের ঘোষনা সংক্রান্ত শব্দ আমরা বিশাল বড় ফন্ট এবং সাইজ এবং কালার নির্বাচন করে থাকি। রং, মাপ, ইমেল, অধিক উচ্চতর টেমপ্লেট স্প্যামিং হার বাড়িয়ে দেয়। তাই নিউজলেটার পরিষ্কার রাখতে হবে। অতিরিক্ত ফন্ট এবং বড় সাইজের ইমেল নিউজলেটার তৈরি না করাই ভালো। মনে রাখবেন, ইমেল টেমপ্লেট একটি নিউজলেটার যাতে একটি খবর ৫০-৭০ টি শব্দের মধ্যে থাকা উচিত। ইমেল নিউজলেটারকে আমরা ব্লগিং মনে করে ভুল করি। সকল তথ্যই একসাথে না দিয়ে কেবল একটি ইনফরমেশন নির্ভর ইমেল টেমপ্লেট আদর্শ নিউজলেটার হতে পারে। সহজ সংক্ষিপ্ত নিউজলেটার সারভারে সব থেকে বেশী রেটিং এবং রেসপন্স পেতে দেখা যায়।

৩। একই টেমপ্লেট এর ব্যবহার: অনেকেই এই কাজটি করেন যা আপনার ইমেলকে স্প্যামিং করতে পারে নিশ্চিন্তে। একই টেমপ্লেট ব্যবহার করে কেবল স্প্যামিং করে না বরং একটি স্প্যাম রিপোর্ট তৈরি করে রাখে। একটি টেমপ্লেট একবার স্প্যাম হয়ে গেলে তাই পরবর্তীতে একই ডায়াগ্রামে পাওয়া ইমেল সহজেই স্প্যাম করে দেয়। আপনি হয়ত বিভিন্ন বিভিন্ন নিউজ এড করছেন কিংবা হয়ত আপনি একটি টেমপ্লেট এডিট করে নিউজলেটার বদল করছেন কিন্তু নতুন নিউজ থাকা সত্ত্বেও স্প্যামিং হয়ে যাবে কেননা, আপনার টেমপ্লেটে একটি স্প্যাম ফ্ল্যাগ যুক্ত হয়ে গেলে তা বাতিল করে দেয়াই নিরাপদ। তাই প্রতিবার নতুন নতুন টেমপ্লেট ব্যবহার করুন।

৪। অটো টাইম সিডিউল: প্রতি মাসে কিংবা প্রতি সাপ্তাহে একই দিনে একই সময়ে প্রাপ্ত ইমেলও কখনও কখনো স্প্যামিং করতে পারে। কেননা, অটো সেন্টার দিয়ে টাইম সেট করে রেখ অটোমেটিক্যালী কোটি কোটি ইমেল সিডিউল অনুযায়ী সেন্ড করা সম্ভব যা স্প্যামিং হিসেবে কাউন্ট করতে পারে যদি তা একই ইমেলে একই সময়ে প্রতিবার সেন্ড হয়। তাই এই বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত।

৫। সব সময় ডাবল অপট-ইন ব্যবহার: একাধিক নিউজলেটার পাঠাতে আমরা একই ইমেল ব্যবহার করি। আমরা ভাবি এতে আমাদের ইমেইলের পরিচিতি বাড়বে। কিন্তু এটা উচিত নয়। কেননা আপনার ইমেলটি একবার ব্যাক লিষ্টে চলে গেলে পরবর্তীতে এই ইমেল ব্যবহার করে পাঠানো সকল ইমেলই স্প্যাম হবে। যারা ইমেল অপেন করবে না তাদের কাজে পাঠানো ইমেল স্প্যাম হয়েছে বলেই অনুমান করে নেয়া যেতে পরে। ইমেল মার্কেটিং সারভারে বিভিন্ন প্লাগইনস ব্যবহার করে দেখে নেয়া সম্ভব যে কতটি ইমেল ইনবক্স থেকে অপেন হয়েছে। ক্লিক পড়েছে। ইত্যাদি তথ্য কালেক্ট করা সম্ভব। তাই যাদের সার্ভার ব্যবহার করে মার্কেটিং করবেন তাদের কাছ থেকে পূর্বেই জেনে নেয়া যেতে পারে তারা কি কি সুযোগ দিচ্ছে।

৬। সাবসক্রাইব ও আনসাবসক্রাইব: ইমেইলে অনেকেই আনসাবসক্রাইব লিংক ব্যবহার করতে চান না। তারা ভাবেন এটি ব্যবহার করলে আমার ইমেল আনসাবক্রাইব করে দিতে পারে। কিন্তু একবার আনসাবসক্রাইব করলে আপনার তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কেননা, পরবর্তীতে আপনি অন্য ইমেল ব্যবহার করে অন্য নিউজলেটার পাঠাতে তো সে নিষেধ করে নি। আনসাবসক্রাইব অপশন হয়ত কেউ খুজে পেল না অথচ সে সত্যি হয়ত একই ইমেল বা তথ্য আর দেখতে চায় না। তখন সে সরাসরি আপনার ইমেলটি স্প্যাম করে দেবে। এতে আপনার লাভ হওয়ার থেকে ক্ষতি বেশী হবে। তাই সাবসক্রাইব ও আনসাবসক্রাইব অপশন যুক্ত করুন। আনসাবসক্রাইব অপশন থাকলে অনেক সুবিধার পাশাপাশি আইনী অনেক সাপোর্ট পাওয়া যায়। আপনার ব্যবসাটি একটি বিশ্বস্ততা অর্জন করবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্প্যাম আইনকে কনফার্ম করবে ফলে আপনার ব্যবসার প্রতি আস্তা বাড়বে। পরিষ্কারভাবে আপনার সারভারে একটি যোগাযোগ তথা কোম্পানীর ভেলিড এড্রেস থাকা উচিত। সৃজনশীলভাবে আপনী যা নিউজলেটারে যুক্ত করতে পারেন।

৭। নো স্প্যাম টুডে: স্প্যাম ফিল্টার এড়ানোর বেসিক জ্ঞান আলোচনা হলো কিন্তু এসব যথেষ্ট নয়। আমরা জিমেল, ইয়াহু, হট মেইল কিংবা নিজস্ব ডোমেইন নেইম থেকে ইমেল ব্যবহার করি এসব ইমেল প্রবাইডার একই শর্ত বা আইন রাখে নি। উপরের আলোচনাটি ছিল সার্বজনীন। এগুলো সকল ইমেল সার্ভিস প্রভাইডারের জন্য কমন আইন। প্রতিটি সার্ভিস প্রবাইডারের স্প্যামিং ফিল্টার অপশন রয়েছে যা আপনি অবশ্যই দেখে থাকবেন। প্রতিটি সার্ভিস প্রবাইডরের ভিন্ন ভিন্ন আইন রয়েছে। নো স্প্যাম টুডে সফটওয়্যার ব্যবহার করে তারা এই স্প্যাম ফিল্টার করে থাকে। যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দ নির্ভর। তাই আপনার ইমেল নিউজলেটারটি তৈরি করে নিজের ভিন্ন ভিন্ন ইমেল এ দেখে নেয়া উচিত। কোন কোন ইমেল আইডি আপনার নিউজলেটার স্প্যাম করলে আরো উন্নত নিউজলেটার তৈরি করতে হবে। প্রথমবার যে ইমেইলে নিউজলেটার চেক করেছেন দ্বিতীয়বার একই আইডি ব্যবহার না করাই উত্তম। আর প্রফেশনালী কাজের জন্য ইয়াহু, জিমেল, হটমেইল, এঅল, নিজস্ব ইমেল সারভার ইত্যাদি সব ধরনের ইমেল ব্যবহারী আপনাকে হওয়া উচিত। স্প্যাম ইমেল ব্যবহার না সব থেকে ভালো। অনেকে বলে থাকেন আমার নিজস্ব প্রডাক্ট সেটা আমি স্প্যাম ফিল্টারে পাঠালেও আমার সমস্যা নাই। অনেকেই স্প্যাম ইমেল চেক করেন। সেখান থেকে ১% কাষ্টমার আমি পেলেও হলো। তাই আমি এতো শর্ত পালনে বাধ্য নই। এটাও অনেক বড় ভুল। আপনার ইমেইলের স্প্যাম রিপোর্ট আপনার সার্ভারের জন্যও একটি স্প্যাম ফ্ল্যাগ যুক্ত করতে পারে। যা আপনার ওয়েব সারভারের জন্য গুপ্ত ঘাতক হিসেবে কাজ করবে। তাছাড়া ‘নো স্প্যাম টুডে’ সফটওয়্যারটি আপনি ব্যবহার করতে পারেন। কেননা, পৃথিবী ব্যাপী প্রায় সকল ইমেল সার্ভিস প্রবাইডার কোম্পানী এই সফটওয়্যারের প্রতিলিপি ব্যবহার করে। এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে চেক ইন করে নেয়া যেতে পারে।


উপসংহার: স্প্যাম ফিল্টার এড়িয়ে বৈধ ইমেল পাঠাতে এই আরটিকোলটি সবার একবার হলেও পড়া উচিত এবং অন্যদের কাছে এই পেইজটির লিংক রেফার করা উচিত। স্প্যাম ইমেল প্রতিরোধে এটি সর্বগ্রাসী হিসেবে অনেকে কাজে লাগতে পারে। আমি মূলত এথানে যে তথ্যগুলো উপস্থাপন করেছি তা থেকে আপনার ইমেল ইনবক্স রেটিং ৪০-৫০% বৃদ্ধি করবে। আরো কৌশল ও টেকনিক নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করব ইনশাল্লাহ।

লেখক, ওবায়দুল হক
মোবাইল: ০১৭১৮০২৩৭৫৯