রেহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে নানা জনের মুখে নানা কথা শুনা যায়। রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী ভবিষ্যৎ বাংলাদেশীদের জন্য ‘ইসরাইল’ জাতিগোষ্ঠীর সাথে তুলনা করছেন কেউ কেউ! আসলেই কি তারা নিরিহ আশ্রিত জাতি হিসেবে আছে না কি বাংলাদেশের জন্য তারা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে সেসব বিষয় নিয়েই আজকের আলোচনা।

রোহিঙ্গা হলো পশ্চিম মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি রাষ্ট্রবিহীহনে ইন্দো-আর্য  জনগোষ্ঠী । হিউম্যান রাইটস  ওয়াচের তথ্যমতে, ১৯৮২ সালের আইনে রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা  অর্জনের সম্ভবনা কার‌্যকরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে ।  ৮ম  শতাব্দী পরযন্ত রোহিঙ্গাদের   এতিহাস  সন্ধান  পাওয়া সত্ত্বে ও বার্মার আইন সংখ্যালঘু  নৃতাত্ত্বিক  জনগোষ্ঠীকে তাদের জাতীয় নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী হিসাবে অস্বীআর করেছে। এমনকি তাদের জাতীয়  শিক্ষা ও সরকারী চাকরীর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হয়েছে ।

একই সাথে মায়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক বিচারবহিভূত হত্যা , অবৈধ গ্রেফতার , নির্যাতন , ধর্ষণ এবং অপব্যবহারের শিকার হওয়ার পাশাপাশি জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করেছেন ।

যার ফলে , ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসের শেষের দিকে প্রায় ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের সীমানা দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে উঠেছিল । শুধু তাই নয় , ১৯৭৪ সারের মিয়ানমারের সাময়িক জান্তা কর্তৃক ইমার্জেসি ইমিগেশন অ্যাক্ট প্লাস করার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা মাত্রায় রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আশ্রয় নেওয়া শুরু করে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশের সরকার , জনগণ ও বিভিন্ন  প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছে । সরকার  বিপর্যত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পালিযে আসার পর তার মধ্যে প্রায় ৩৮১,০০০ রোহিঙ্গা শিশুর জরুরী শিক্ষা ব্যবস্থার বড় একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছিল্ । তাছাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য খাদ্য , বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থার মাধ্যমে আশ্রয় দিয়ে ছিল ।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে বাংলাদেশের সমস্যা 

১.  রোহিঙ্গা শরণার্থীদের  আশ্রয় শিবির তৈরি করার জন্য পাহাড়ি বনভূমি উন্মুক্ত । বৃক্ষ উজাড়ের ফলে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে পরিবেশে ।

২.  টয়লেটের অব্যবস্থার ফলে  পরিবেশ দূষণ হচ্ছে ও জরবায়ু এলাকা থাকার কারণে পানি দূষিত হচ্ছে । সেই জন্য বিভিন্ন  ধরণের রোগ এই এলাকায় ছড়িয়ে যাচ্ছে ।

৩.  অনেক শরণার্থীদের মধ্যে এইচআইভি পজিটিভ থাকার ফলে  এইডস রোগ ছড়িয়ে পড়ছে ।

৪.  বাংলাদেশে পরিসংখ্যান  ব্যুরোর প্রাক্কলন অনুসারে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে  বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৬০২ মার্কিন ডলার , সেই হিসাবে ৭ লক্ষ রোহিঙ্গার মাথাপিছু আয় হওয়ার কথা ১১২ কোটি ডলার বা ৮ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা । যখন কোনো সংস্থা সাহায্য করবে না তখন প্রতি বছর  ব্যায় করতে হবে ৪৯ কোটি ডলার বা ৩ হাজার ৯৯২ কোটি  টাকা । কিন্তু বর্তমান সময়ে রোহিঙ্গা ৭ লক্ষ থেকে বেড়ে ১১ লক্ষ তে পরিণত হয়েছে সেই অনুপাতে ব্যায় টা ও বৃদ্ধি পেয়েছে । তাই রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশে বড় ধরণের আর্থিক চাপে পড়তে পারে ।

৫.  রোহিঙ্গা যুবকেরা ইয়াবা পাঁচারের সাথে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কারণ আগে থেকেই রোহিঙ্গারা ইয়াবা পাঁচারের যুক্ত ছিলো । বাংলাদেশে প্রায় ৯০ ভাগ ইয়াবা আসে মাযানমার থেকে । তাই এটি বাংলাদেশের জন্য বড় ধরণের সম্যাসা ।

৬.  সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সাথে মিশে পাসপোর্ট তৈরি করেছে । তা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠে যে বিভিন্ন ধরণের ক্রাইম দলের সাথে যুক্ত হয়ে ক্রাইম করতে পারে । এটি আমাদের দেশের জন্য বড় ধরণের বিপদ হতে পারে ।

৭.  রোহিঙ্গা শরণার্থীর কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের বিরাট সমস্যা হচ্ছে । রোহিঙ্গারা অল্প টাকায় পরিশ্রম করে দিচ্ছে ।যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বেকার হয়ে যাচ্ছে , কক্সবাজারের স্থানীয় লোকদের আর্থতিক সংকটে পড়ছে এবং অস্বাভাবিক জীবনযাপন গড়ে  উঠেছে । অবশেষে বলা যায় রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশ সব দিক দিয়ে বড় ধরণের সমস্যায় পড়েছে ।

পূর্বে এই সমস্যা সমাধান করার জন্য রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করলে ও তারা না গিয়ে ৫ দফা দাবী করে। দাবী গুলো হচ্ছে:-

১. রোহিঙ্গারা মায়ানমারে স্থায়ী বাসিন্দা হতে চায়। সেই কারণে তাদের স্থায়ী স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে আইন পাস করতে হবে।

২.মায়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় দিতে হবে।

৩. নিজ নিজ গ্রামে ফিরিয়ে দিয়ে তাদের কেড়ে নেওয়া জমি গুলো ক্ষতিপূর্ণ দিয়ে ফিরিয়ে দিতে হবে।

৪. রোহিঙ্গাদরে জীবন ও সম্পদ সুরক্ষার জন্য পুলিশ বাহীনির সাথে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়ন করতে হবে।

৫.মিয়ানমারের স্থানীয় আদালতে বিচার না করে আন্তর্জাতিক অগরাদ আদালতে বিচার করতে হবে।

শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান  করা যেতে পারে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার  রোহিঙ্গা শরণার্থীদের  মায়ানমারে  ফিরিয়ে দেওয়া মাধ্যমে এবং চলিত মাসের শেষের দিকে নিউয়ার্কে ত্রি-দেশীয় বৈঠক বসে এই সমস্যার সমাধান করবে । 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।